নিজস্ব প্রতিবেদক, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর রহমান :
একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম সঙ্গী ছিল বই। গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা জ্ঞানমূলক বই—বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ যেমন আনন্দ খুঁজে নিত, তেমনি সমৃদ্ধ করত নিজের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাপন ও বিনোদনের ধরন। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন কনটেন্টের বিস্তারে অনেকের হাত থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে ছাপা বই।
তবে পাঠাভ্যাস পুরোপুরি হারিয়ে যাচ্ছে—এমনটা বলার সুযোগও নেই। বরং অনেকের ক্ষেত্রে বই পড়ার মাধ্যম বদলে গেছে। ছাপা বইয়ের পাশাপাশি এখন ই-বুক, অনলাইন বই, অডিওবুক ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বই পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ এখন মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বই পড়ছেন। কেউ পড়ছেন উপন্যাস, কেউ আত্মউন্নয়নমূলক বই, আবার কেউ ইতিহাস, বিজ্ঞান কিংবা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা বই। ফলে প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে পাঠাভ্যাসের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের ভাষাজ্ঞান, কল্পনাশক্তি, চিন্তার গভীরতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য বই হতে পারে পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও এতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। শিশু-কিশোরদের হাতে বয়স উপযোগী বই তুলে দেওয়া এবং ঘরে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষের হাতে সময় কমলেও প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। একটি ভালো বই কখনো শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তা, মনন ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তির যুগে তাই প্রশ্ন শুধু—মানুষ বই পড়ছে কি না, তা নয়; বরং **মানুষ কী পড়ছে এবং কীভাবে পড়ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।** ছাপা বই হোক কিংবা ডিজিটাল বই, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হয়ে থাকতে পারে বই।
Reporter Name 








