Dhaka 11:40 pm, Wednesday, 29 July 2026
News Title :
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখে: রাশেদ খাঁন অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত, ৪ চিকিৎসককে বরখাস্ত কারামুক্ত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল হাসিনার ইচ্ছা পূরণে অপচয় ৪৪ কোটি টাকা টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আমতলীতে শিশু শ্রম, বাল্যবিবাহ ও স্কুল ঝরে পড়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত আমতলীতে স্বামীর পরকিয়ার বলি স্ত্রী! হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালো স্বামী ও তার স্বজনরা। গ্রেপ্তার-১ হতদরিদ্র পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই সংস্কারে সহায়তার হাত বাড়ালেন বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ শনিবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

খামেনির অবস্থান যেভাবে খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:22:58 pm, Monday, 2 March 2026
  • 81 Time View

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে পদার্পণ করেছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ (রোববার) ভোরে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলায় নিজ কর্মস্থলে শাহাদত বরণ করেন খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, জামাতা এবং নাতির শাহাদাতের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বারবার দাবি করে আসছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নিরাপদ এবং গোপন স্থানে বাস করেন। কিন্তু কর্মস্থলে তার মৃত্যু  এই দাবির অসারতা প্রমাণ করল।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তার অবস্থান ও অভ্যাস সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে।

সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।

সিআইএ এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের হামলার সময় বদলে ফেলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

আরও পড়ুন

সূত্রগুলো জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ।

সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন।

প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য বড় এক সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে, এতে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকার পরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।

এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসি কীভাবে যোগাযোগ ও চলাফেরা করছিল—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তারিত তথ্য পায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।

এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করেছিল। ইরানের নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পরবর্তী ধাপে, যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানেও হামলা চালানো হয়।

তবে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় বলেন, আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সে।

ওই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবু এই হামলায় ইসরাইল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে পেরেছে।

হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানে ১,২০০- এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেখানে অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিদ্যালয়ে হামলায় ‘ডজনখানেক নিরীহ শিশু’ নিহত হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

RJ Saimur Rahman

Popular Post

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

খামেনির অবস্থান যেভাবে খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল

Update Time : 04:22:58 pm, Monday, 2 March 2026

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে পদার্পণ করেছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ (রোববার) ভোরে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলায় নিজ কর্মস্থলে শাহাদত বরণ করেন খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, জামাতা এবং নাতির শাহাদাতের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বারবার দাবি করে আসছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নিরাপদ এবং গোপন স্থানে বাস করেন। কিন্তু কর্মস্থলে তার মৃত্যু  এই দাবির অসারতা প্রমাণ করল।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তার অবস্থান ও অভ্যাস সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে।

সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।

সিআইএ এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের হামলার সময় বদলে ফেলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

আরও পড়ুন

সূত্রগুলো জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ।

সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন।

প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য বড় এক সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে, এতে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকার পরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।

এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসি কীভাবে যোগাযোগ ও চলাফেরা করছিল—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তারিত তথ্য পায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।

এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করেছিল। ইরানের নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পরবর্তী ধাপে, যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানেও হামলা চালানো হয়।

তবে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় বলেন, আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সে।

ওই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবু এই হামলায় ইসরাইল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে পেরেছে।

হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানে ১,২০০- এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেখানে অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিদ্যালয়ে হামলায় ‘ডজনখানেক নিরীহ শিশু’ নিহত হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’