tag:
Dhaka 10:40 am, Saturday, 11 April 2026

পদ্মায় প্রাণ গেল নাসিমার, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফিরলেও

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:47:44 pm, Saturday, 28 March 2026
  • 34 Time View
কার কোথায় লেখা আছে, কেউ জানে না। যেমন জানতেন না নাসিমা বেগমও। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থেকেও জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।

নাসিমার মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাইয়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নাছিমা বেগম ওই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। শুক্রবার বাদ জুমা পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে দিনাজপুরে যে কয়েকজন নারী বেঁচে ফিরেছিলেন, তার মধ্যে তিনটি আলোচিত নাম হলো ঘোড়াঘাটের রেশমা বেগম, পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম এবং ফুলবাড়ীর রেবেকা সুলতানা।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তারা। তবে এবার আর পদ্মায় বাস দুর্ঘটনা ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে পদ্মা থেকে নাসিমার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।জানা গেছে, কর্মের সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান নাসিমা।

সেখানে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো কর্ম মেলেনি তার ভাগ্যে। পরে পার্বতীপুরে বাড়ি ফিরতে চাইলে ভাগনির অনুরোধে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার ফিরছিলেন। সেই বাসটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়।

তারা সবাই পানিতে ডুবে যান।

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।এদিকে, নিহতদের স্বজনরা অ্যাম্বুল্যান্সে করে লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর ২৬ এপ্রিল অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন তিনি। এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা ফেরেন। এটাই ছিল তার জীবনের শেষ কর্মের সন্ধান। আর কোনোদিন তাকে কর্মের সন্ধান করতে হবে না।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

shaddat hossen

পদ্মায় প্রাণ গেল নাসিমার, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফিরলেও

Update Time : 05:47:44 pm, Saturday, 28 March 2026
কার কোথায় লেখা আছে, কেউ জানে না। যেমন জানতেন না নাসিমা বেগমও। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থেকেও জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।

নাসিমার মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাইয়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নাছিমা বেগম ওই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। শুক্রবার বাদ জুমা পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে দিনাজপুরে যে কয়েকজন নারী বেঁচে ফিরেছিলেন, তার মধ্যে তিনটি আলোচিত নাম হলো ঘোড়াঘাটের রেশমা বেগম, পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম এবং ফুলবাড়ীর রেবেকা সুলতানা।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তারা। তবে এবার আর পদ্মায় বাস দুর্ঘটনা ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে পদ্মা থেকে নাসিমার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।জানা গেছে, কর্মের সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান নাসিমা।

সেখানে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো কর্ম মেলেনি তার ভাগ্যে। পরে পার্বতীপুরে বাড়ি ফিরতে চাইলে ভাগনির অনুরোধে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার ফিরছিলেন। সেই বাসটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়।

তারা সবাই পানিতে ডুবে যান।

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।এদিকে, নিহতদের স্বজনরা অ্যাম্বুল্যান্সে করে লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর ২৬ এপ্রিল অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন তিনি। এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা ফেরেন। এটাই ছিল তার জীবনের শেষ কর্মের সন্ধান। আর কোনোদিন তাকে কর্মের সন্ধান করতে হবে না।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।