Dhaka 10:00 pm, Tuesday, 15 September 2026
News Title :
‘ইলিশের দেশে’ ইলিশ আসছে ভারত থেকে! দ্রব্যমূল্য- নিম্ন আয়ের ক্রেতার কাছে ডিমও এখন দামি বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েল স্কুলে ভর্তিতে আসছে নতুন নিয়ম, তিন বিষয়ে দিতে হবে পরীক্ষা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ শীর্ষ ৫০ উদ্ভাবনে ড্যাফোডিল এআইয়ের ৬ প্রকল্প জাতির প্রয়োজনে সরকারকে যে কোনো সময় সহযোগিতা করবে বিরোধী দল: শফিকুর রহমান যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ট্রাম্পকে আয়ারল্যান্ডের বার্তা দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ হামলার পর নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিলেন বাঁধন ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

৪১ ব্যাংকের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাত- হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:46:23 pm, Thursday, 3 September 2026
  • 33 Time View

৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামি হলেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন।

তাতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ওই ট্রাস্টে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহসভাপতি ছিলেন।

দুদক জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তাতে জানা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে, তা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআরবিষয়ক নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এর নিয়মের কথা বলা হয়েছে।

দুদক বলছে, সরেজমিন পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ‘ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে ‘প্রভাব বিস্তার করে’ ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ, বিএবির সভাপতি থাকার সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকার পরও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

RJ Saimur Rahman

Popular Post

‘ইলিশের দেশে’ ইলিশ আসছে ভারত থেকে!

৪১ ব্যাংকের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাত- হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Update Time : 07:46:23 pm, Thursday, 3 September 2026

৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামি হলেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন।

তাতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ওই ট্রাস্টে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহসভাপতি ছিলেন।

দুদক জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তাতে জানা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে, তা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআরবিষয়ক নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এর নিয়মের কথা বলা হয়েছে।

দুদক বলছে, সরেজমিন পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ‘ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে ‘প্রভাব বিস্তার করে’ ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ, বিএবির সভাপতি থাকার সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকার পরও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।