Dhaka 11:47 pm, Tuesday, 15 September 2026
News Title :
‘ইলিশের দেশে’ ইলিশ আসছে ভারত থেকে! দ্রব্যমূল্য- নিম্ন আয়ের ক্রেতার কাছে ডিমও এখন দামি বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েল স্কুলে ভর্তিতে আসছে নতুন নিয়ম, তিন বিষয়ে দিতে হবে পরীক্ষা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ শীর্ষ ৫০ উদ্ভাবনে ড্যাফোডিল এআইয়ের ৬ প্রকল্প জাতির প্রয়োজনে সরকারকে যে কোনো সময় সহযোগিতা করবে বিরোধী দল: শফিকুর রহমান যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ট্রাম্পকে আয়ারল্যান্ডের বার্তা দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ হামলার পর নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিলেন বাঁধন ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:15:44 am, Saturday, 5 September 2026
  • 23 Time View

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা সে সময় অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’

বাবার ভূমিকার পক্ষে বলতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ। তার দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে আলী আকবরের ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।

আসিফের ভাষ্য, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’

শুধু ১৯৭১ নয়, ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে সেই চিঠিটি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার মতে, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার কারণে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আসিফ জানান, সে সময় নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শের পর ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার ভাষ্য, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও তাকে গ্রেপ্তার বা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

RJ Saimur Rahman

Popular Post

‘ইলিশের দেশে’ ইলিশ আসছে ভারত থেকে!

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

Update Time : 10:15:44 am, Saturday, 5 September 2026

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা সে সময় অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’

বাবার ভূমিকার পক্ষে বলতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ। তার দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে আলী আকবরের ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।

আসিফের ভাষ্য, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’

শুধু ১৯৭১ নয়, ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে সেই চিঠিটি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার মতে, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার কারণে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আসিফ জানান, সে সময় নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শের পর ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার ভাষ্য, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও তাকে গ্রেপ্তার বা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ।