ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে ?

নিজস্ব সংবাদ :

ক্ষমতাচ্যুত

শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অর্থাৎ মাত্র চার মাস সাতদিনের দিন সোমবার এই মামলায় রায় হলো।

রায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে এটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়।

এই মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি ও অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পলাতক দেখিয়ে এই মামলার বিচার হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের পরে গতবছর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে, অক্টোবরে এই মামলাটি হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এটিই প্রথম রায়।

মামলাটিতে প্রথমে শেখ হাসিনাই আসামি ছিলেন। তবে এ বছরের মার্চে বাকি দুইজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।

সোমবার ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত রায়ে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুইটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

তবে এটি মামলাটির শেষ ধাপ নয়। এরপরে আরো দুইটি বিচারিক ধাপ রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রমাণিত হলে, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল ট্রাইব্যুনাল।

এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। শাহবাগে লাগাতার বিক্ষোভ হয়, শাহবাগের এই বিক্ষোভের স্থান সেসময় গণজাগরণ মঞ্চ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

ওই সময় ১৯৭৩ সালের আইনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ ছিল না।

পরে বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
১৩৫ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে ?

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত

শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অর্থাৎ মাত্র চার মাস সাতদিনের দিন সোমবার এই মামলায় রায় হলো।

রায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে এটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়।

এই মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি ও অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পলাতক দেখিয়ে এই মামলার বিচার হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের পরে গতবছর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে, অক্টোবরে এই মামলাটি হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এটিই প্রথম রায়।

মামলাটিতে প্রথমে শেখ হাসিনাই আসামি ছিলেন। তবে এ বছরের মার্চে বাকি দুইজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।

সোমবার ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত রায়ে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুইটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

তবে এটি মামলাটির শেষ ধাপ নয়। এরপরে আরো দুইটি বিচারিক ধাপ রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রমাণিত হলে, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল ট্রাইব্যুনাল।

এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। শাহবাগে লাগাতার বিক্ষোভ হয়, শাহবাগের এই বিক্ষোভের স্থান সেসময় গণজাগরণ মঞ্চ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

ওই সময় ১৯৭৩ সালের আইনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ ছিল না।

পরে বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস করে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/radiodurbar/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481