দেশে কারো ব্যবহৃত কোনো মোবাইল সেট বন্ধ হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। এমনকি দেশের বাইরে থেকে আনা মোবাইল সেটও সচল থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বন্ধ হবে কি না অবৈধ মোবাইল ফোন, ফয়েজ তৈয়্যব স্পষ্ট করলেন
দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে মধ্যরাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ১০ ঘণ্টা পর আবার ছেড়ে দেওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি। ছাড়া পাওয়ার পর সোহেল এই ভোগান্তির জন্য দায়ী করেছেন সরকারের একজন উপদেষ্টাকে, যদিও তিনি তার নাম নেননি।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার পেছনে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জড়িত বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এসব বিষয়ে স্পষ্ট করে ফয়েজ আহমদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন সাংবাদিককে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চলছে আজ সকাল থেকে। সবার আগে আমি স্পষ্টভাবে এবং জোরালো ভাষায় বলছি—ওই সাংবাদিককে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় আমার কোনো ধরনের ভূমিকা নেই। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
কেন এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী লিখেছেন, ‘এখন কেন হঠাৎ করে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে—সেই প্রেক্ষাপটটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এনইআইআর ঘোষণার পরপরই অবৈধ আমদানিকারক ও স্মাগলার সিন্ডিকেট বিভিন্ন মার্কেটে বহিরাগত দিয়ে বিক্ষোভ, দেশীয় ব্র্যান্ডের শোরুমে হামলা, কর্মচারীদের হুমকি—এসব তৎপরতা শুরু করে। তারা এনইআইআর নিয়ে অনেক অপপ্রচারও করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে অবৈধ আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশেই চোরাপথে আনা নতুন হ্যান্ডসেটগুলো বাংলাদেশে নেটওয়ার্কে কাজ করবে না। এর বাইরে সাধারণ ব্যবহারকারীর কোনো ফোন বন্ধ হবে না। আপনার কেনা হ্যান্ডসেটটি বৈধ বা অবৈধ কিনা তার যাচাই আপনি শোরুম থেকে জাস্ট একটি এসএমএসের মাধ্যমে করতে পারবেন। আরেকটি বিষয়—যে কেউ বিদেশ ভ্রমণে নিজের ব্যবহারের ফোনের বাইরে একটি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন সাথে আনতে পারবেন।’
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে এই চক্রের কয়েকজন প্রতিনিধি তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তিনি তাদের দুটি শর্ত দেন। শর্ত দুটি হলো—দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শোরুমে হামলা, বন্ধ করা ও হুমকি বন্ধ করতে হবে। এনইআইআর বিরোধী সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, তারা যদি এই দুই শর্ত মানে, তাহলে বৈধ ফোন আমদানির শুল্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব। তারা এরপর আর যোগাযোগ করেনি।’
এরপর গতকাল সাংবাদিকদের কাছে প্রেস কনফারেন্সের নিমন্ত্রণের একটি চিঠি আসে— “Addressing Regarding NEIR Implementation” শিরোনামে— যেখানে মোহাম্মদ আসলাম নামে একজন নিজেকে “মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন।
ফয়েজ তৈয়ব বলেন, এই সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিওটিতে নিবন্ধিত নয়। পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, অবৈধ আমদানিকারক চক্রই ভুঁইফোঁড় পরিচয়ে নতুন এক সংগঠন বানিয়ে এনইআইআরবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। আসলামের ফোন নাম্বার যে নাম্বার দেওয়া হয় সেটি সেই সাংবাদিকের বলে আমাকে অন্তত হাফ ডজন মানুষ কিছুক্ষণ আগে নিশ্চিত করেছেন। এবং সেই সাংবাদিক নিজেই সাংবাদিকদের এর কাছে সেই প্রেস ইনভিটেশনটি পাঠান।
তিনি আরো বলেন, এই অবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে: একজন সাংবাদিক কিভাবে কীভাবে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের “সভাপতি” পরিচয়ে ভুয়া টাইটেল, ভুয়া পরিচয় ও নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার করে স্মাগলিং-অভিযুক্ত গোষ্ঠীর হয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন?
ফেসবুকে ফয়েজ তৈয়ব আরো বলেন, একজন সাংবাদিক কীভাবে চোরাচালান কারবারিদের মুখপাত্র, পিআর এজেন্ট, পরামর্শক বা বেনেফিশিয়ারি হয়ে কাজ করতে পারেন? এটা কি সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে? সুতরাং, কেউ আইন-এর ঊর্ধ্বে নয়। যে কোনো পেশার মানুষ—যদি নৈতিক সীমার বাইরে গিয়ে কোনো অবৈধ চক্রের সঙ্গে জড়িত হন—তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘তবে আমি মনে করি, এ ধরনের পদক্ষেপ দিনের বেলায়, স্বচ্ছভাবে নেওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সবার জন্যই নিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করে। আর আমি সবাইকে অনুরোধ করছি—অবৈধ আমদানিকারকদের চক্র যেসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, সেগুলোতে কান না দিয়ে সতর্ক থাকুন।’
তিনি বলেন, মূল ইস্যু হলো—অবৈধ ফোন আমদানিকারকরা এনইআইআর বন্ধ করতে এবং বৈধ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এজন্য তারা অনেক অর্থ ব্যয় করছে। তাই আপনারা দেখবেন আমার ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়াতে মিথ্যার ছড়াছড়ি।
ফেসবুক পোস্টের শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই যে এনবিআর মোবাইল আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় উৎপাদনের কর কাঠামো যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করুক, যাতে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য হ্যান্ডসেটের দাম আরো কমে আসে।












